নিম গাছ কে কেনো বলা হয় "village pharmacy" - গ্রামের ওষুধের দোকান ??
- Debjoyti Ghosh
- Jun 27, 2025
- 2 min read

নিম গাছ যা এখন সব থেকে জরুরি শহরে কারন -নিম গাছের পাতা সব থেকে বেশি পরিমাণে থাকে এবং পাতা খুব তাড়াতাড়ি জন্মায় সেই কারণেই এরা খুব বৃহৎ পরিমাণে co² , Oxides of sulphur আর nitrogen গ্রহণ করে একারণেই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে খুব সাহায্য করে নিম এমন একটা গাছ যা দূষিত বাতাস কে পরিস্কার করে বাতাস ছড়িয়ে দেয়
🌿 নিম গাছ সম্পর্কে বিস্তারিত :
প্রকৃতি তার অপার দানে আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। আর এই অফুরন্ত দানগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম সেরা উপহার হলো নিম গাছ।
নিম গাছ (Azadirachta indica) ভারতীয় উপমহাদেশের একটি বড়, চিরসবুজ গাছ। এটি পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওষধি গাছ হিসেবে বিবেচিত হয়। নিম গাছ সাধারণত ১৫–২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং এটি উষ্ণ ও আধা-উষ্ণ জলবায়ুতে ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এই গাছ খরা সহ্য করতে পারে এবং খুবই টেকসই।

✅নিম গাছের ওষুধি গুণাবলি:
নিমপাতা:
তিতকুটে স্বাদযুক্ত, কিন্তু অত্যন্ত উপকারী।
চর্মরোগ, যেমন একজিমা, চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদির চিকিৎসায় কার্যকর।
ম্যালেরিয়া, ভাইরাল জ্বর ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও এটি ভূমিকা রাখে।
নিমবীজ ও তেল:
নিমবীজ থেকে পাওয়া তেল চুল পড়া বন্ধ করে এবং খুশকি প্রতিরোধে কার্যকর।
এটি ত্বকে লাগালে ব্রণ ও ফুসকুড়ি দূর হয়।
অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ থাকার কারণে এটি অনেক ওষুধে ব্যবহৃত হয়।
নিমের ছাল:
ছাল সিদ্ধ করে পান করলে পেটের ব্যথা, অজীর্ণতা ও গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় উপকার মেলে।
এটি রক্ত পরিশোধনে সহায়তা করে।

✅ কৃষি ও পরিবেশে নিম গাছের উপকারিতা:
প্রাকৃতিক কীটনাশক:
রাসায়নিকবিহীন বিকল্প হিসাবে, ফসলের ক্ষতিকর পোকা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়।
এটি ফসলের গুণগতমান অক্ষুণ্ণ রাখে এবং জমির উর্বরতা নষ্ট করে না।
জৈব সার হিসেবে:
নিমখোল ও নিমতেল ব্যবহার করে মাটিকে আরও উর্বর করা যায়।
জমিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কমায়।
পরিবেশ রক্ষা:
নিম গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন নিঃসরণ করে।
এটি বাতাসে থাকা বিষাক্ত গ্যাস শোষণ করে বাতাস পরিশোধন করে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ:
নিম গাছের আশপাশের এলাকা সাধারণত অন্যান্য জায়গার তুলনায় ৮–১০⁰ সেলসিয়াস পর্যন্ত ঠান্ডা থাকে।
এটি শহরাঞ্চলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
বাস্তুসংস্থান সমর্থন:
অনেক প্রজাতির পাখি, প্রজাপতি, মৌমাছি এবং উপকারী কীটপতঙ্গ নিম গাছে বাস করে বা খাদ্য পায়।
✅ সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব:
ভারতীয় আয়ুর্বেদে গুরুত্বপূর্ণ স্থান:
নিম বহু শতাব্দী ধরে আয়ুর্বেদ চিকিৎসা পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
বহু প্রাচীন চিকিৎসা পুস্তকে নিমের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার:
অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাড়ির সামনে নিম গাছ থাকলে অশুভ শক্তি দূর হয় এবং ভালো স্বাস্থ্য বজায় থাকে।
মন্দিরের আশেপাশে নিম গাছ লাগানো হয় পবিত্রতা বজায় রাখতে।
লোকসংস্কৃতিতে নিম:
নানা কুসংস্কার ও বিশ্বাসের সঙ্গে নিমের সম্পর্ক রয়েছে।
নববর্ষ বা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নিমপাতা দিয়ে ঘর সাজানো হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
যদিও নিমের অনেক উপকারিতা আছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা উচিত:
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য: গর্ভকালীন সময়ে নিম তেল বা নিমের ছাল মুখে সেবন করা নিরাপদ নয়, কারণ এটি গর্ভপাত ঘটাতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করলে নিমের ব্যবহার রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত ব্যবহার: নিমের অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতা ডেকে আনতে পারে বলে কিছু গবেষণা ইঙ্গিত করে।
অঙ্গ প্রতিস্থাপন: যারা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেছেন এবং ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট ওষুধ খাচ্ছেন, তাদের নিম ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ নিম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
🌟 ফলাফলস্বরূপ:
এইসব ঔষধি, পরিবেশগত এবং সাংস্কৃতিক উপকারিতার জন্য নিম গাছকে যথার্থভাবে "প্রাকৃতিক ফার্মেসি", "গ্রামের ওষুধের দোকান" বা "অলৌকিক গাছ" বলা হয়।



Comments